April 19, 2026, 2:36 pm

মতলব দক্ষিণে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা ॥ মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানারকম গুঞ্জন

আব্দুল মান্নান খান, মতলব প্রতিনিধি :মতলব দক্ষিণে গলায় ফাঁস দিয়ে মো. মাসুম হোসেন নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। গত ১৩ জুন দিবাগত রাতে উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের (পোদ্দারের দিঘিরপাড়) করিম মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। কেউ বলছে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করেছে। আবার কেউ বলছে মৃত্যুটি রহস্যজনক।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুল করিম মিয়ার ছেলে মো. মাসুম হোসেন (২২) গত ১৩ জুন রাতে পরিবারের লোকজনের সাথে অভিমান করে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে রাতেই স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মাসুমের লাশ নিচে নামিয়ে ফেলে। এনিয়ে এলাকায় নানান গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, ইউপি সদস্য একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কিভাবে আত্মহত্যাকারির লাশ পুলিশের অনুমতি ছাড়া নিচে নামায়। তাছাড়া ওই ছেলে আত্মহত্যা করার মত ছেলে না।
তারা আরও জানান, মাসুমের সাথে পাশের গ্রামের একটি মেয়ের দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ওই মেয়ের অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। তারপরও মাসুম ওই পুরনো প্রেমিকার সাথে গোপনে সম্পর্ক চালিয়ে যায়। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে ঝামেলা চলছিলো।
মতলব দক্ষিণ থানার এসআই ফিরোজ আহাম্মদ মোল্লা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁস দেওয়া ব্যক্তির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম সহ স্থানীয় লোকজন লাশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামিয়ে ফেলে। পরে আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরন করি।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম জানান, আমি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ নিচে নামাইনি। তবে আমি উপস্থিত ছিলাম।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া জানান, লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা